সর্বশেষ খবর
দলিত হওয়ায় চিকিৎসা নেই! সরকারি হাসপাতালের বাইরেই সন্তান প্রসব
প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তরপ্রদেশের ভাদোহি জেলায় এক চরম অমানবিক ও লজ্জাজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল যোগীরাজ্য। প্রসবযন্ত্রণায় কাতর এক দলিত অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠল। শেষ পর্যন্ত কোনও উপায় না দেখে, চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালের বাইরের রাস্তাতেই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হলেন ওই তরুণী। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের জ্ঞানপুরের মহারাজা চেত সিং জেলা হাসপাতালের এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই ২০ বছর বয়সী তরুণীর নাম রানি। তিনি প্রান্তিক ‘মুসহর’ দলিত সম্প্রদায়ের অন্তর্গত। মঙ্গলবার রাতে তীব্র প্রসববেদনা ওঠায় পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। অভিযোগ, তরুণীর সামাজিক পরিচয় জানার পরেই বেঁকে বসেন হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকেরা। রোগীকে ভর্তি নেওয়া তো দূর অস্ত, ছুঁয়ে দেখতেও অস্বীকার করা হয় বলে অভিযোগ। অগত্যা হাসপাতাল থেকে অপমানিত হয়ে কান্নাকাটি করতে করতে বেরিয়ে আসছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই হাসপাতালের মূল গেটের বাইরে রানির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। নিরুপায় হয়ে মহিলারা শাড়ি ও চাদর দিয়ে আড়াল তৈরি করে ফুটপাতেই তাঁর প্রসব করান।
রাস্তায় সন্তান প্রসবের এই রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়ে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক স্বয়ং কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি প্রমাণিত হওয়ায় আপৎকালীন চিকিৎসা আধিকারিক (EMO) চিকিৎসক পঙ্কজকে তৎক্ষণাৎ চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, অভিযুক্ত স্টাফ নার্স নীলম মৌর্যকে বদলি করার পাশাপাশি হাসপাতালের আরও চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
যদিও সাফাই দেওয়া হয়েছে যে, ওই তরুণী তীব্র রক্তাল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভুগছিলেন। তাঁর শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা মাত্র ৫ গ্রাম থাকায় উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরিত (রেফার) করা হয়েছিল। তবে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা রোগীকে পরীক্ষা না করেই মাঝরাতে তাড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনা আবারও সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা বেআব্রু করে দিল। বর্তমানে মা ও নবজাতক দু’জনেই সুস্থ আছেন এবং তাঁদের হাসপাতালে এনে রক্ত দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

