শান্তিলাভের উপায়
জগতে প্রকৃত শান্তিকামীর সংখ্যা খুবই কম। অনেকেই জানেনা প্রকৃত শান্তি কীভাবে লাভ করা যায়। মর্তলীলা সংবরণের মাত্র পাঁচ দিন পূর্বে জনৈকা মহিলা ভক্তকে শ্রীমা সারদাদেবী যে উপদেশটি দিয়েছিলেন তা জগতের সব সময়ে সকল মানুষের জন্যই —"যদি শান্তি চাও মা, কারও দোষ দেখো না। দোষ দেখবে নিজের। জগতকে আপনার করে নিতে শেখ। কেউ পর নয় মা, জগত তোমার।" অনেকেই মুখে শান্তি চাই, শান্তি চাই বলে কিন্তু মনেপ্রাণে শান্তি চায় কয়জন? সেই কারণেই শ্রীশ্রীমা বললেন, যদি শান্তি চাও মা। আসলে শান্তি চাই বললেই হয় না, শান্তির জন্য যা করণীয় কার্যক্ষেত্রে সেটি অনেকেই করে না বা করতে পারে না। শুধু তাই নয় যেসব কারণে অশান্তির সৃষ্টি হয়, কার্যকালে বারবার সে সেটিই করে বসে। এতে বিস্মিত হবার কিছু নেই। সংসারের নিয়ম এই, জীবনের রূঢ় সত্য এটাই। তা সত্ত্বেও মানুষ চেষ্টা করে প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করে জীবনে শান্তি লাভ করতে, চেষ্টা করে সমাজে শান্তি স্থাপন করতে, বিশ্বের নানা জাতি ও নানা ধর্মের মানুষের অশান্তি দূর করে বিশ্বশান্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে। বাস্তবে দেখা যায়, অশান্তির প্রধান কারণ অপরের দোষদর্শন। বহু মানুষ আছেন যাদের মন বিশ্বনিন্দুক মনে পরিণত হয়। সবকিছুতেই তারা সমালোচনার চোখে দেখে। শুধু নিজের দিকে ফিরে তাকানোর শিক্ষাটা থাকেনা। মনোভাবটা এরকম—জগতের সকলেই খারাপ শুধু আমি বা আমরা ভালো। তাই জগত কে ভালো করার জন্য, জগতকে পরিবর্তন করার জন্য কী মাথাব্যথা! আমরা বুঝতে পারিনা যে শান্তি লাভের উপায়টি একেবারে ব্যক্তিগত। সর্ষের ভিতর ভূত থাকলে সেই সর্ষে দিয়ে ভূত তাড়াবার চেষ্টা যেমন ব্যর্থ হয় সেই রকম নিজেকে ভালো করার, পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে, জগতকে ভালো করার, পরিবর্তন করার চেষ্টা পণ্ডশ্রমমাত্র। জগত সংসার যেভাবে চলে আসছে সেই ভাবেই চলবে এটাই সংসারের রীতি। সুতরাং প্রকৃত শান্তি লাভ করতে হলে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টাতে হয়।

