সর্বশেষ খবর
হাওড়ায় এসটিএফের জালে আরও এক সন্দেহভাজন জঙ্গি গ্রেফতার
প্রকাশিত: ৩ আগস্ট, ২০২৬
পাপাই সরকারঃ রাজ্যে জঙ্গি দমনে ফের বড় সাফল্যের দাবি করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে আদিত্য সিং নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী দল। বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল ও তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেফতারের পর টানা জিজ্ঞাসাবাদে আদিত্যর নাম উঠে আসে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই হাওড়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, আদিত্য বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং পরিবারের ব্যবসার দেখাশোনাও করতেন।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, আদিত্য দীর্ঘদিন ধরে হামিম মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছিল। এলাকায় নিজের পরিচয় গোপন রেখে সে হামিমকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করত। অভিযোগ, জঙ্গি নেটওয়ার্কের নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপর নজরদারির দায়িত্বও পালন করত সে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, রাজ্যের পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর ছেলের গতিবিধি, ব্যক্তিগত তথ্য ও দৈনন্দিন কর্মসূচি গোপনে সংগ্রহ করে জঙ্গি চক্রের উচ্চপদস্থ সদস্যদের কাছে পাঠানো হত।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, একটি অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে আদিত্যর প্রথম পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় বন্ধুত্বে পরিণত হয় এবং ধীরে ধীরে তাকে জঙ্গি মতাদর্শে প্রভাবিত করা হয় বলে তদন্তকারীদের ধারণা। এরপর থেকেই সংগঠনের হয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির কাজে সে সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।
এসটিএফ সূত্রের দাবি, আদিত্য নিয়মিত মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য হামিম এবং অর্পিতার কাছে পাঠাত। তদন্তে এমন অভিযোগও সামনে এসেছে যে, মন্ত্রীপুত্রকে ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁসিয়ে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা কতদূর এগিয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের মতে, বর্ধমান থেকে হামিম ও অর্পিতার গ্রেফতারের কয়েক দিনের মধ্যেই হাওড়া থেকে আদিত্যর ধরা পড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই নেটওয়ার্কের শিকড় আরও গভীরে ছড়িয়ে থাকতে পারে। বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস, চ্যাট, কল রেকর্ড এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্য খতিয়ে দেখে গোটা চক্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
গ্রেফতারের পর সোমবার আদিত্য সিংকে ১৪দিনের STF হেফাজতের আবেদন চেয়ে, বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হয় তাকে। আদালত তাকে ১১ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।১৪ই আগষ্ট ফের তাকে আদালতে তোলা হবে।দেশবিরোধী কার্যকলাপ-সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে একটি আইফোন উদ্ধার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের আশা, ওই ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রের অন্য সদস্যদের পরিচয় এবং সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।
এসটিএফের নজরে এখন এই চক্রের বাকি সদস্যরা। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, রাজ্যের আরও কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধি এই নেটওয়ার্কের নজরদারির তালিকায় ছিলেন কি না এবং কার নির্দেশে এই তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছিল। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।

