সর্বশেষ খবর
সোশাল মিডিয়ায় জাত তুলে গালিগালাজ করলেও এসসি-এসটি অ্যাক্ট
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: ইন্টারনেটের যুগে ‘জনসমক্ষে অপমান’ বলতে শুধু রাস্তাঘাট, হাট-বাজার বা চার দেওয়ালের বাইরের কোনও ভৌত স্থানকে বোঝায় না। ফেসবুক কিংবা অন্য কোনও সোশাল মিডিয়ায় কাউকে জাত তুলে গালাগালি বা কটূক্তি করলেও তা তফশিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন বা এসসি-এসটি অ্যাক্টের (SC/ST Act) আওতায় পড়বে। এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় সম্প্রতি এমনটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট(Calcutta High Court)। উচ্চ আদালতের একক বেঞ্চের বিচারপতি উদয় কুমার এই তাৎপর্যপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছেন।
আইনি পরিভাষায় এসসি-এসটি আইনের ৩(১)(আর) এবং ৩(১)(এস) ধারা অনুযায়ী, কোনও তফশিলি জাতি বা উপজাতির মানুষকে জনসমক্ষে অপমান বা হেনস্থা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি জানান, আইনের এই ‘জনসমক্ষে’ (Public View) শব্দটির পরিধিকে কেবল ভৌগোলিক বা শারীরিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ভুল। বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক মাধ্যমের দেওয়ালও জনসমক্ষের সমতুল্য। ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যদি কেউ কাউকে জাতিগত পরিচয় তুলে আক্রমণ করেন, তবে এই নির্দিষ্ট আইনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।
মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল বেহালা থানার একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারী তফশিলি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি দাবি করেন, ফেসবুকে তাঁর জাত তুলে অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমে সোশাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের থেকে পর্যাপ্ত তথ্য না পেয়ে নিম্ন আদালতে ‘কোনও সূত্র মেলেনি’ (No Clue) মর্মে একটি ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেয় এবং মামলাটি বন্ধ করার আর্জি জানায়। নিম্ন আদালত সেই রিপোর্ট গ্রহণ করলে ক্ষুব্ধ অভিযোগকারী হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। পুলিশের দেওয়া সেই দায়সারা রিপোর্ট খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি উদয় কুমার স্পষ্ট জানান, সোশাল মিডিয়ার অপমানের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করা জরুরি। তিনি কলকাতা পুলিশের বিশেষ সাইবার সেলকে আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ের ফলে সোশাল মিডিয়ায় বর্ণবিদ্বেষ ছড়ানো অপরাধীদের ওপর রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

