পদ ক্ষমতা সম্পদ
চন্ডীতে বর্ণিত রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধির কাহিনী আজও যেন আমাদের জীবনে হুবহু মিলে যায়। রাজা সুরথ বিশাল রাজ্যের অধিকারী হয়েও একদিন তিনি রাজ্য ও পদ হারিয়ে মনের দুঃখে মেধস্ মুনির আশ্রমে পৌঁছলেন। আবার একই সময়ে প্রচুর সম্পদের অধিকারী হওয়া সত্বেও বৈশ্য সমাধি সমস্ত সম্পদ হারিয়ে,বিপদে পড়ে মনের দুঃখে মেধস্ মনের আশ্রমে গিয়ে পৌঁছলেন। রাজা সুরথের ছিল পদ ও ক্ষমতা আর বৈশ্য সমাধির ছিল সম্পদ। ক্ষমতা, পদ, সম্পদ সবগুলিই জীবনে ডেকে আনলো চরম বিপদ। আজকে আমরাও মূলত এইগুলিই চাই। আমরা পড়াশোনা করি, কাজ করি, ব্যবসা-বাণিজ্য করি মূলত এই ক্ষমতা ও সম্পদের জন্য। আমাদের জীবনের আদর্শ হয়ে দাঁড়ায় সুরথ কিংবা সমাধির মতো হওয়া। এমনকি আমাদের জীবনের সাফল্যের মানদন্ড এই গুলির ভিত্তিতেই বিচার করা হয়। কি আশ্চর্য ব্যাপার! চারিদিকে আমরা মায়ের পূজা করি। বড় বড় প্যান্ডেল, বিভিন্ন রকমের থিম, রকমারি আলোর রোশনাই, ডিজে বক্সের ঝনঝনানি, কত রকম ভাবে নিজেদের সাজসজ্জা আরও কত কি! আমরা মায়ের পূজা করি কিন্তু শক্তি সাধনা নয়। কেন পূজা করি, সনাতন ধর্মের পূজার তত্ত্ব কি সে সম্পর্কে হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা বা জানার চেষ্টাও করি না। আসলে আমরা মায়ের পূজা করি তাঁর ঐশ্বর্য পাবার জন্য, মায়ের শক্তিকে পাবার জন্য নয়। কাজী নজরুল ইসলামের কি অসাধারণ অভিব্যক্তি এই সম্পর্কে! তিনি লিখলেন—"খড়ের প্রতিমা পূজিস রে তোরা, মাকে তো তোরা পুজিস নে। প্রতিমার মাঝে প্রতিমা বিরাজে হায়রে অন্ধ বুঝিস নে।" তাই সম্পদ ও ক্ষমতা পেয়েও আমরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারি না কারণ অন্যেরা এগুলি ছিনিয়ে নিতে চায়। কিভাবে এই সম্পদ বা ক্ষমতা অর্জন করব এই চিন্তাতেই আমাদের দিন চলে যায়। আবার সম্পদ ও ক্ষমতা এমন জিনিস যা না পেলেও দুঃখ পেলেও দুঃখ। এই হলো জীবনের মজার দিক। এই বিষয়ে আমাদের সনাতন শাস্ত্রগুলি বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন যেগুলি আমাদের অনেকের চর্চার মধ্যে নেই। তাই এগুলি অর্জন করার পরেও আমরা এত দুঃখ, এত আঘাত পেয়ে থাকি।

