হাই ভোল্টেজ কেন্দ্রে প্রার্থীর হয়ে প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী, নির্বাচন বিধির মান্যতা রেখে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন
রিচা দত্ত, মুর্শিদাবাদ: আগামী ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার রাজ্যের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ৭০ নম্বর রেজিনগর বিধানসভায় উপনির্বাচন। ভোটের ঠিক আগেই বৃহস্পতিবার প্রচারের ঝড় তুলতে রেজিনগরে এলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আজ শক্তিপুর প্রভাত সংঘের মাঠে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির স্রষ্টা হুমায়ুন কবীর। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন তিনি। এবার উপনির্বাচনে তিনি নিজের ছেলেকে প্রার্থী করেছেন।
উপনির্বাচনের দিন যত এগোচ্ছে, ততই রেজিনগরে প্রচারের পারদ তুঙ্গে উঠছে। বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মন্ত্রী ও বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ, বিধায়িকা গার্গী দাস ঘোষ এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী।
বিরোধী দলনেতার আগমনকে কেন্দ্র করে এদিন সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রভাতে প্রবেশের আগেই মুখ্যমন্ত্রী জেসমিনার বাড়িতে যান রেজিনগরের লোকনাথপুরে। লজেন্স কুড়াতে গিয়ে আঘাত পায় তারপর মৃত্যু হয় জেসমিনার। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি, যদিও নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে বলে কোনরকম সরকারি সাহায্য করতে পারবেন না বলে জানান তিনি, তাই নির্বাচন পেরিয়ে গেলেই সরকারিভাবে তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
মঞ্চ থেকে তিনি গত ৫-৬ মাসে বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় এসে কী কী সুবিধা দিয়েছে এবং আগামী দিনে কী কী সুবিধা দেবে, তা বিস্তারিত তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রেই EVM মেশিনে বিজেপি প্রার্থীদের নাম তিন নম্বরে রয়েছে। তাই কোনও দিকে না তাকিয়ে সরাসরি তিন নম্বর বোতাম টেপার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন মঞ্চ থেকে পুলিশ প্রশাসনকেও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান গো-পালকদের আর কোন রকম অসুবিধা হবে না। সরকার সরাসরি তাদের কাছ থেকেই দুধ নেবেন। দুধ এবং দুব্বো জাতীয় দ্রব্যের দাম চড়া হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন এখন আর পুলিশ রাস্তায় হাত পাতে না তাই সব কিছুরই দাম কমবে।বক্তব্যে ভাগীরথী ও আমুল দুধের দামের প্রসঙ্গও তোলেন। সভা শেষ করার আগে বলেন ট্রেনে একটু সমস্যা হচ্ছে, ট্রেনটা আমার নয়, তবু কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আছে, আমি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো যাতে আমার কোনো দুগ্ধ পালকের অসুবিধা না হয়। এরপর পেত তিনি প্রার্থী সখারপ সরকারের হয়ে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মঞ্চ ছাড়েন।

