সর্বশেষ খবর
বাবাকে খুনের দায়ে ছেলের ১০ বছরের কারাদণ্ড, সাজা শোনাল পুরুলিয়া আদালত
প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: সামান্য খাবার নিয়ে ঝামেলার জেরে নিজের জন্মদাতা পিতাকে শাবল দিয়ে পিটিয়ে খুনের অপরাধে এক যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল পুরুলিয়া আদালত। একই সঙ্গে বোনকে গুরুতর জখম করার অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ওই যুবককে আরও এক মাসের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের হাজতবাসের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
আদালত ও আইনজীবী সূত্রে জানা গিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত যুবকের নাম সঞ্জয় মাঝি। সে পুরুলিয়ার আড়শা থানার কলাবনি গ্রামের বাসিন্দা। ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই রাতে বাড়িতে খাবার খাওয়া নিয়ে নিজের বোন রমণী মাঝির সঙ্গে তীব্র বিবাদে জড়িয়ে পড়ে সঞ্জয়। বচসা চলাকালীন আচমকাই বোনকে মারধর করতে শুরু করে সে। সেই সময় বৃদ্ধ বাবা পরাণ মাঝি মেয়েকে বাঁচাতে ছুটে এলে, রাগের মাথায় সঞ্জয় একটি লোহার শাবল দিয়ে বাবা ও বোন দুজনের ওপরই অতর্কিত হামলা চালায়। শাবলের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দুজনেই। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে গুরুতর আহত পরাণ ও রমণীকে উদ্ধার করে স্থানীয় শিরকাবাদ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা প্রৌঢ় পরাণ মাঝিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে জখম যুবতীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
ঘটনার পর মৃত প্রৌঢ়ের বড় ছেলে গুরুপদ মাঝির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আড়শা থানার পুলিশ সঞ্জয়কে গ্রেপ্তার করে। এরপর দীর্ঘ দিন ধরে পুরুলিয়া আদালতে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলে। অবশেষে শুক্রবার পুরুলিয়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সন্দীপ চৌধুরী ধৃত সঞ্জয় মাঝিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে খবর, ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩০৪(১) ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩২৩ ধারায় বোনকে আঘাত করার অপরাধে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। সরকারি আইনজীবী বিশ্বরূপ পট্টনায়েক জানান, "মোট ১২ জন সাক্ষীর বয়ান ও অকাট্য নথিপত্রের ভিত্তিতে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছে।"

