সর্বশেষ খবর
বাসের রুট নিয়ে বচসা, মারধরের পর বাসকর্মীর রহস্যমৃত্যু
প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বাসের দেরিতে চলা এবং রুট দখলকে কেন্দ্র করে পরিবহণ কর্মীদের তুমুল বিবাদ। আর সেই বিবাদের জেরে হওয়া হাতাহাতির কিছুক্ষণের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল এক প্রবীণ বাসকর্মীর। শুক্রবার সিউড়ি কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ডে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম গৌতম রায় (৫৫)। তিনি নলহাটি-আসানসোল রুটের একটি বেসরকারি বাসের কনডাক্টর ছিলেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিউড়ি থানায় সাত-আট জনের বিরুদ্ধে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের ছেলে অপূর্ব রায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গোপালপুর-সিউড়ি রুটের একটি বাস নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে চলছিল। সেই গাড়িটির ঠিক পিছনেই আসছিল গৌতমবাবুর নলহাটি-আসানসোল রুটের বাসটি। সিউড়ি বাস স্ট্যান্ডে ঢোকার পরেই এই দেরি হওয়া এবং রুট ধরা নিয়ে দুই বাসের কর্মীদের মধ্যে তীব্র গণ্ডগোল শুরু হয়। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন গোপালপুর-সিউড়ি রুটের বাসের কর্মীরা চড়াও হন গৌতম রায়ের ওপর। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তথা মৃত কনডাক্টরের সহকর্মী জয়দেব সূত্রধর বলেন, "স্ট্যান্ডের কয়েকজন এসে বলল ওদিকে মারামারি হচ্ছে। শুনেই ছুটে গিয়ে দেখি গৌতমদাকে অন্য বাসের কর্মীরা বেধড়ক মারধর করছে। আমরা কোনোমতে ওঁকে উদ্ধার করে নিজেদের গাড়িতে এনে বসাই। কিন্তু গাড়িতে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই কাঁপতে কাঁপতে উনি সিটের ওপর লুটিয়ে পড়েন।" সহকর্মীরা তড়িঘড়ি তাঁকে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে বাবার এই আকস্মিক মৃত্যুকে স্রেফ দুর্ঘটনা বা শারীরিক অসুস্থতা হিসেবে মানতে নারাজ মৃতের পরিবার। সিউড়ি থানায় করা খুনের অভিযোগে মৃতের ছেলে অপূর্ব রায়ের দাবি, গোপালপুর-সিউড়ি রুটের ওই বাসের খালাসি মহেমান শেখের সঙ্গে তাঁর বাবার বাস চালানো নিয়ে পূর্ব শত্রুতা ছিল। মহেমান-সহ সাত থেকে আট জন দুষ্কৃতী তাঁর বাবাকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যেই লাঠি ও রড নিয়ে বাস স্ট্যান্ডে ওত পেতে অপেক্ষা করছিল। গৌতমবাবুর বাস স্ট্যান্ডে ঢুকতেই তাঁকে জোর করে গাড়ি থেকে নামিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, যার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
খুনের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিউড়ি থানার পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মহেমান শেখ ও তার সঙ্গীরা পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে যে প্রৌঢ়ের মৃত্যু মারধরের চোটে নাকি অতিরিক্ত মানসিক উত্তেজনায় হার্ট অ্যাটাকের কারণে হয়েছে।

