সর্বশেষ খবর
সুস্থ থাকতে রোজ আপেল, বার্তা চিকিৎসকদের
প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: "রোজ একটি করে আপেল খান, আর ডাক্তারকে দূরে রাখুন"— বহু পুরোনো এই প্রবাদটি যে কেবল কথার কথা নয়, তা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় বারবার প্রমাণিত। বর্তমানের ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের যুগে শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে আপেলের জুড়ি মেলা ভার। পুষ্টিবিদ থেকে শুরু করে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, সকলেই এখন প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তত একটি করে আপেল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
আপেলকে বলা হয় পুষ্টির খনি। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং ফাইবার। বিশেষ করে আপেলের খোসায় থাকা ‘পেকটিন’ নামক দ্রবণীয় ফাইবার শরীরের পরিপাকতন্ত্রকে সতেজ রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে ভুগছেন, তাঁদের জন্য নিয়মিত আপেল খাওয়া মহৌষধের মতো কাজ করে। শুধু তাই নয়, আপেলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেয়।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও আপেলের ভূমিকা অনবদ্য। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত আপেল খেলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে ধমনিতে চর্বি জমার সুযোগ পায় না এবং হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে। এর পাশাপাশি, আপেলের কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে দেয় না। যার কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ ও আদর্শ ফল। ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এর জুড়ি মেলা ভার।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আপেল খাওয়ার আগে তা ভালো করে ধুয়ে নেওয়া উচিত, যাতে খোসায় লেগে থাকা রাসায়নিক বা মোম দূর করা যায়। ফাস্টফুডের যুগে কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট ছেড়ে প্রকৃতির এই সহজলভ্য ফলের ওপর ভরসা রাখলে দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ থাকা সম্ভব।

