রাজ্য
বিরোধী দলনেতার ঘর এখনও পাননি শোভনদেব
প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নাম চূড়ান্ত করার পরও বিধানসভায় এখনও ঘর পাননি নতুন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি কালীঘাটের বাসভবনে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই সর্বসম্মতিক্রমে প্রবীণ রাজনীতিবিদ তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিধানসভার বিরোধী দলনেতা (এলওপি) হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। একই সঙ্গে ডেপুটি লিডার বা উপদলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয় অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর লেটারহেডে বিধানসভার সচিবালয়ে এই মর্মে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। কিন্তু চিঠি জমা পড়ার পরও বিধানসভা চত্বরে বিরোধী দলনেতার জন্য নির্দিষ্ট ঘরটি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও বিধানসভার অন্দরে তীব্র জল্পনা ও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কেন এই টালবাহানা?সূত্রের খবর, বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শুধুমাত্র দলের সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া চিঠির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। নিয়ম অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য দলের সমস্ত বিধায়কদের সই সংবলিত একটি প্রস্তাব বা রেজলিউশন জমা দিতে হবে। এই নিয়মের গেরোতেই আটকে রয়েছে শোভনদেবের ঘরের চাবি ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার সচিব সমীরীন্দ্রনাথ দাস সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান, দলের পক্ষ থেকে চিঠির সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়নি। কোন বৈঠক থেকে এবং কবে তাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন তার কাগজ যেমন জমা দিতে হবে তেমন সেই বৈঠকের মিনিটস এর কপিও জমা দিতে হবে সচিবালয়ের কাছে। তাঁর কথায়, চিঠির সঙ্গে দলীয় বৈঠকের কোনও রেজোলিউশন কপি বা মিনিটস দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, কতজন সদস্য এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন, তা জানানো হয়নি। এমনকী চিঠিতে বৈঠকের উল্লেখ থাকলেও, সেই বৈঠকটি কবে, কোন তারিখে হয়েছিল—তারও কোনও উল্লেখ নেই। সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়ার অধ্যক্ষ কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

