বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
রাজ্য

ক্ষোভের মুখেও পেশাদারিত্বে অনড় বিকাশ রঞ্জন

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬
ক্ষোভের মুখেও পেশাদারিত্বে অনড় বিকাশ রঞ্জন
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজনীতি এবং পেশাদারিত্ব কি সম্পূর্ণ আলাদা? এই চিরন্তন বিতর্ককে ফের একবার উস্কে দিলেন প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করে নিজের দলেরই কর্মী-সমর্থকদের একাংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সিপিএমের তারকা প্রার্থী ছিলেন বিকাশবাবু। ফলে, দলীয় লাইনের ঘোর বিরোধী নেত্রীর অনুগামীদের হয়ে তাঁর এই আইনি লড়াইকে সহজভাবে নিতে পারছেন না বাম কর্মীদের একাংশ।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল— সর্বত্রই এই নিয়ে বাম সমর্থকদের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে। যে তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত সরব হন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, সেই দলেরই নেতাদের আইনি রক্ষাকবচ দিতে কেন তিনি এগিয়ে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু সতীর্থ। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপ নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
তবে প্রবল সমালোচনা ও দলের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়েও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও নড়েননি বিকাশবাবু। বরং সুর আরও চড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর কাছে রাজনীতি এবং ওকালতি পেশা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর বিষয়। একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে যে কোনো মক্কেলের পক্ষে আদালতে দাঁড়ানো তাঁর কর্তব্য। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তিনি সাফ জানান, আইনি প্রয়োজন হলে এবং পেশাগত পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়েও আদালতে সওয়াল করতে পিছপা হবেন না।
উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টে দুর্নীতি ও আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তির মামলায় দেবরাজ ও অদিতির হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করেন বিকাশ। ওই মামলায় আপাতত ওই দম্পতিকে স্বস্তিও এনে দিয়েছেন তিনি। তারপরেই দলীয় নেতা ও সমর্থকদের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে বর্ষীয়ান আইনজীবীকে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ বলেন, আমরা চাই অদিতি–দেবরাজের মতো চোররা জেলের ভিতরেই থাকুন। বিকাশদা কেন এই মামলা লড়েছেন সেটা তিনি বলতে পারবেন। সব সময়ে চেয়েছি বিকাশদা মামলা জিতুন, কিন্তু এই মামলাটা বিকাশদা হেরে গেলেই আমি খুশি হবো। বিকাশের এই ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলেছেন বামপন্থী বলে পরিচয় দেওয়া পরিচালক–অভিনেতা সৌরভ পালোধী থেকে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্ররা। হতাশা আর ক্ষোভ উগরে দিয়ে সৌরভ লিখেছেন, যে পার্টির চুরি আর দুর্নীতির জন্য আপনার পার্টির হাজার হাজার কর্মী খুন হলো তাঁদের চুরি যে চুরি নয়, এটা প্রমাণ করতে আপনি কোর্টে লড়বেন? এটাকে আবার আপনার ‘কাজ’ বলে ন্যারেটিভ সেট করবেন। এ কেমন কমরেডশিপ।

আরও রাজ্য খবর