মানকরে শ্রদ্ধায় ও স্মরণে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী: মঙ্গলমের উদ্যোগে শামিল যুব সমাজ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মানকরে অন্যতম অগ্রণী সমাজ ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র মানকর মঙ্গলম-এর উদ্যোগে বুধবার সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী। এলাকার একটি বেসরকারি লজে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় যুব সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলার দুই প্রধান কবি—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের সূচনা হয় কবিগুরু ও বিদ্রোহী কবির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। এরপর ‘মানকর মঙ্গলম’-এর সদস্যরা ও শিল্পীরা উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন। উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত সৃজনশীলতা। যুব সমাজের প্রতিনিধিরা দুই কবির কবিতা আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি এবং একক ও দলগত নৃত্যের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠান মঞ্চ ভরিয়ে তোলেন।
রবীন্দ্রনাথের প্রেম ও প্রকৃতির গানের পাশাপাশি নজরুলের সাম্যবাদী ও উদ্দীপনামূলক গানগুলি পরিবেশন করেন নবীন শিল্পীরা। উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতারা তরুণ প্রজন্মের এই মননশীল পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের মাঝে দুই কবির জীবন, আদর্শ এবং বর্তমান সমাজে তাঁদের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়। মানকর মঙ্গলমের পক্ষ থেকে মলয় শুক্ল জানান, বর্তমানের গতিময় ও ডিজিটাল যুগে তরুণ প্রজন্ম যাতে নিজেদের সংস্কৃতি ও শিকড়কে ভুলে না যায়, সেই কারণেই এই প্রয়াস। যুব সমাজ যেভাবে এগিয়ে এসে এই অনুষ্ঠানকে সফল করেছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। অপসংস্কৃতির হাত থেকে তরুণ মনকে রক্ষা করতে রবীন্দ্র-নজরুলের চেতনাকে হাতিয়ার করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংস্থার অন্যতম পদাধিকারী অরিজিৎ ভট্টাচার্য।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়েছে। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ঘেরা মানকরের এই অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমী সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

