জীবনযাপন
ভ্যাপসা গরমে ফ্রিজের কনকনে ঠান্ডা জল খাচ্ছেন? ডেকে আনছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি
প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ তীব্র গরমে বাইরে থেকে ঘেমে-নেয়ে বাড়ি ফিরে এক গ্লাস বরফ-ঠান্ডা জল খেলে সাময়িকভাবে শরীর ও মন জুড়িয়ে যায় ঠিকই। গ্রীষ্মকালের এই ভ্যাপসা গরমে আমাদের অনেকেরই ফ্রিজের কনকনে ঠান্ডা জল খাওয়ার একটি সহজাত অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সাময়িক আরামদায়ক মনে হলেও অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খাওয়ার এই অভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। তীব্র গরমে হঠাৎ খুব বেশি ঠান্ডা জল খেলে কী কী স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে, তা জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
হজম প্রক্রিয়ায় বড় বাধা
অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খাওয়ার সবচেয়ে বড় কুপ্রভাব পড়ে আমাদের পরিপাকতন্ত্র বা হজম প্রক্রিয়ার ওপর। ঠান্ডা জল পানের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রক্তনালীগুলি সংকুচিত হয়ে পড়ে। এর ফলে স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন বাধা পায় এবং হজম শক্তি কমে যায়। খাবার হজম করার জন্য শরীরের যে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও শক্তির প্রয়োজন হয়, ঠান্ডা জল তা কমিয়ে দেয়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হার্টের গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি
চিকিৎসকেরা জানান, বরফ-ঠান্ডা জল আমাদের শরীরের ‘ভেগাস স্নায়ু’ (Vagus Nerve)-কে উদ্দীপিত করে। এই ভেগাস স্নায়ু আমাদের শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, যা হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খাওয়ার ফলে এই স্নায়ু আচমকা শান্ত হয়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে হার্টের ওপর। এর ফলে হঠাৎ করেই হৃদস্পন্দনের গতি বা হার্ট রেট কমে যেতে পারে, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
গলা ব্যথা ও সাইনাসের সমস্যা
গরম থেকে এসেই ফ্রিজের কনকনে জল খেলে শ্বাসনালীতে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা বা মিউকাসের আস্তরণ তৈরি হয়। এই আস্তরণটি শ্বাসনালীর সুরক্ষা কবচকে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। ফলস্বরূপ গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি, টনসিল ফুলে যাওয়া এবং সাইনাসের ব্যথা তীব্র হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে যাঁদের ওহাঁপানি বা মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়।
দাঁতের এনামেলের ক্ষতি ও থার্মাল শক
প্রচণ্ড গরম শরীর নিয়ে হঠাৎ ঠান্ডা জল খেলে শরীরে এক ধরণের ‘থার্মাল শক’ বা তাপমাত্রার আকস্মিক আঘাত লাগে। এর পাশাপাশি ঠান্ডা জল দাঁতের ভেতরের সংবেদনশীল স্নায়ুর ক্ষতি করে। এটি নিয়মিত করলে দাঁতের সুরক্ষাকারী স্তর বা এনামেল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দাঁত শিরশির করার সমস্যা চিরস্থায়ী রূপ নিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে ফ্রিজের কনকনে জলের বদলে কলসি বা কুঁজোয় রাখা স্বাভাবিক ঠান্ডা জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

