বিনোদন
১৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ অভিনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে
প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উঠল ১৫ লক্ষ টাকা আর্থিক প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের এক চলচ্চিত্র প্রযোজক তরুণ দাসের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে এখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে বাংলার রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মহলে। একজন হাইপ্রোফাইল তারকা তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এমন প্রতারণার অভিযোগ আসায় স্বাভাবিকভাবেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে সর্বত্র।
অভিযোগকারী প্রযোজক তরুণ দাসের দাবি, ২০১৮ সালে একটি নতুন সিনেমার কাজের জন্য অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই ছবিতে অভিনয়ের পারিশ্রমিক বাবদ অগ্রিম হিসেবে সোহমকে নগদ এবং চেকের মাধ্যমে মোট ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তরুণবাবুর অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘ আট বছর কেটে গেলেও অভিনেতা ছবিটির শ্যুটিংয়ের জন্য কোনো সময় বা ‘ডেট’ দেননি। এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি সিনেমাটিতে অভিনয়ও করেননি। প্রযোজকের দাবি, বারবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিনেতার তরফ থেকে কোনো সদর্থক উত্তর মেলেনি।
দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পর কাজ না হওয়ায় প্রযোজক তরুণ দাস তাঁর অগ্রিম দেওয়া ১৫ লক্ষ টাকা ফেরত চান। কিন্তু অভিযোগ, সোহম চক্রবর্তী সেই টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন এবং নানাভাবে সময় নষ্ট করতে থাকেন। কোনো উপায় না দেখে অবশেষে নিজের টাকা ফিরে পেতে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই প্রযোজক। তিনি তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। তরুণ দাসের হুঁশিয়ারি, দ্রুত এই টাকা ফেরত না দেওয়া হলে তিনি আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী চণ্ডীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের একাধিক পদেও রয়েছেন। ফলে এই ঘটনার পর বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে শাসকদলকে নিশানা করতে ছাড়ছে না। অন্যদিকে, টলিউডের অন্দরেও এই আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে এই সম্পূর্ণ অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এখন দেখার, এই আইনি নোটিশের জবাবে অভিনেতা কী পদক্ষেপ নেন এবং এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় ঘোরে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

