কেরলের মুখ্যমন্ত্রী সতীশন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর কেরলের রাজনীতিতে নতুন সূর্যোদয় হতে চলেছে। দীর্ঘ ১১ দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটক ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কংগ্রেস হাইকমান্ড রাজ্যের ভবিষ্যৎ কর্ণধার হিসেবে ভি ডি সতীশনের নাম ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ্য, কেরলে কুর্সির লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হল দিল্লির প্রেস কনফারেন্সে। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অজয় মাকেন ও মুকুল ওয়াসনিক আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিলেন, কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন। আগামী ১৮ মে তিরুবনন্তপুরমের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে তিনি শপথ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
সূত্রের খবর, সতীশনের সঙ্গে ওই দিনই মন্ত্রিসভার একটি বড় অংশ শপথ নিতে পারেন। ইউডিএফ জোটের প্রধান শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (IUML) অন্তত ৫টি মন্ত্রীপদ দাবি করেছে, যার মধ্যে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদটিও থাকতে পারে। এছাড়াও আরএসপি এবং কেরালা কংগ্রেসের (জোসেফ) মতো শরিক দলগুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে । ভি ডি সতীশন নিজে জানিয়েছেন, তিনি একা নন, বরং কে সি বেণুগোপাল এবং রমেশ চেন্নিথালার মতো অভিজ্ঞ নেতাদের পরামর্শ নিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন।
৬১ বছর বয়সী সতীশন উত্তরসূরি হিসেবে পিনারাই বিজয়নের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। গত পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর তীক্ষ্ণ সওয়াল ও দুর্নীতিবিরোধী লড়াই ভোটারদের মন জয় করেছিল। নির্বাচনী ফলে তার প্রতিফলনও দেখা গেছে; ১৪০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ১০২টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
রাহুল গান্ধী এই প্রসঙ্গে বলেন, সতীশনকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, "কেরলের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, সতীশন সেই আশার প্রতীক"। বর্ষীয়ান নেতা এ কে অ্যান্টনি সতীশনকে আশীর্বাদ করে জানিয়েছেন, তিনি আত্মবিশ্বাসী যে সতীশনের নেতৃত্বে কেরল ভারতের অন্যতম উন্নত রাজ্যে পরিণত হবে।
কে সি বেণুগোপাল যদিও নিজে এই পদের অন্যতম দাবিদার ছিলেন, তবুও হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তিনি সতীশনকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন [১.৪.১, ১.৪.৫]।
পিনারাই বিজয়নের দশ বছরের শাসনের পর কংগ্রেসের এই প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সতীশনের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন এবং জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে একটি স্থিতিশীল সরকার উপহার দেওয়া।

