পুত্রসন্তান না হওয়ায় স্ত্রীর গোপনাঙ্গে অ্যাসিড ঢেলে দিল স্বামী
নিজস্ব প্রতিনিধি: কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধে একবিংশ শতাব্দীতেও এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হতে হলো। পুত্রসন্তান না হওয়া এবং পরকীয়ার মিথ্যা সন্দেহ করে নিজের স্ত্রীর গোপনাঙ্গে শৌচাগার পরিষ্কার করার অ্যাসিড ঢেলে দিল স্বামী। শুধু তাই নয়, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে টানা ১৫ দিন স্ত্রীকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখা হলো। মহারাষ্ট্রের পুণে জেলার হাভেলি তালুকের একটি গ্রামে এই হাড়হিম করা নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনায় পুণে গ্রামীণ পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা ওই তরুণীর বয়স তিরিশের কোঠায়। ওই দম্পতির ঘরে ইতিমধ্যেই দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে একটি পুত্রসন্তানের জন্য স্ত্রীর ওপর লাগাতার মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাচ্ছিল অভিযুক্ত স্বামী। কেন সে পুত্রসন্তান জন্ম দিতে পারছে না, এই অজুহাতে প্রায় প্রতিদিন রাতে মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীকে চরম মারধর ও অকথ্য গালিগালাজ করা হতো। পেশায় ওয়েল্ডার ওই ব্যক্তি পুণের হাভেলিরই একটি ফ্যাব্রিকেশন কারখানায় কাজ করে। নিজের নৃশংসতাকে আড়াল করতে স্ত্রীর চরিত্রের ওপর কাদা ছেটাতেও পিছপা হয়নি সে। তাঁর বিরুদ্ধে পরকীয়ার কাল্পনিক অভিযোগ এনে নিয়মিত অশান্তি করত।গত ২০ এপ্রিল এই পারিবারিক নির্যাতন চরম সীমায় পৌঁছায়। ওইদিন রাতে পুত্রসন্তান না হওয়া এবং পরকীয়ার মিথ্যা অপবাদ নিয়ে দম্পতির মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়।
আচমকাই রাগের মাথায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হুমকি দেয় যে সে স্ত্রীর গোপনাঙ্গে অ্যাসিড ঢেলে দেবে। হুমকি দেওয়ার পর মুহূর্তেই শৌচাগার থেকে অ্যাসিড নিয়ে এসে সে স্ত্রীর ওপর চরম পাশবিক অত্যাচার চালায়। অ্যাসিডের কারণে ওই তরুণীর শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।অ্যাসিড ঢালার পর যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ন্যূনতম প্রয়োজন বোধ করেনি ওই পাষণ্ড স্বামী। তরুণী চিকিৎসার জন্য বারবার কাকুতি-মিনতি করলেও, তাঁর সমস্ত অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। এভাবে টানা ১৫ দিন যন্ত্রণায় ছটফট করা অবস্থায় বন্দি থাকেন তিনি। অবশেষে গত ৯ মে সুযোগ বুঝে নিজের দুই কন্যাসন্তানের সাহায্যে কোনোক্রমে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান ওই আক্রান্ত মহিলা।বাড়ি থেকে পালিয়ে তিনি সোজা শোলাপুরে তাঁর বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছান। সেখানে সমস্ত ঘটনা জানানোর পর পরিবারের সহায়তায় পুলিশকে সবটা জানানো হয়। পুণে গ্রামীণ পুলিশ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১5 এবং ১২৪ ধারায় অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। নির্যাতিতা মহিলাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে এবং তাঁর প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত স্বামী, তাঁর খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।

