দেশ
আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি: সাধারণ মানুষকে ‘লুট’ করছে মোদি সরকার, তোপ দাগল কংগ্রেস
প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে জেরবার দেশের আম জনতা। বাজার করতে গিয়ে প্রতিদিন পকেটে টান পড়ছে সাধারণ মধ্যবিত্তের। এই পরিস্থিতিতে আম জনতার ক্ষোভকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শোনাল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। কংগ্রেসের দাবি, বছরের পর বছর ধরে পেট্রল ও ডিজেল থেকে বিপুল মুনাফা লুটে আম জনতাকে নিঃস্ব করছে এই সরকার এবং দেশের মানুষের ওপর এই ‘লুটপাট’ এখনও রমরমিয়ে চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের রোজকার খাদ্যতালিকায় থাকা প্রায় প্রতিটি জিনিসের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। বাজারে গিয়ে হাত পুড়ছে ক্রেতাদের। নিত্যদিনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান দুধের দাম বেড়েছে ৩ শতাংশ। সাধারণ মানুষের প্রধান খাদ্য চাল এবং ময়দার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ করে। রান্নার প্রধান উপাদান ভোজ্যতেলের দামও পিছিয়ে নেই, তার মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কাঁচাবাজারে। নিত্যদিনের আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন আনাজ ও সবজির দাম ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের হেঁশেল চালানো এখন দায় হয়ে পড়েছে।
এই চরম আর্থিক সংকটের সময়ে মোদি সরকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে যখন অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে, তখনও দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হচ্ছে না। পেট্রল ও ডিজেলের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। কংগ্রেস নেতাদের স্পষ্ট বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে জ্বালানি তেল থেকে বিপুল মুনাফা করে কেন্দ্র সরকার আম জনতাকে লুট করেছে। বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতেও সেই নির্মম লুট বন্ধ করার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিরোধীদের মতে, পেট্রল ও ডিজেলের দাম চড়া থাকার কারণেই সবজির গাড়ি বা অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী পরিবহণের খরচ একধাপ বেড়ে গিয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরো বাজারে। এক দিকে কর্মসংস্থানের অভাব, অন্য দিকে হু হু করে বাড়তে থাকা মূল্যবৃদ্ধি— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত।
কংগ্রেস দাবি করেছে, অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং জ্বালানি তেলের ওপর থেকে কর কমিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে হবে। মূল্যবৃদ্ধির এই জ্বলন্ত ইস্যুকে সামনে রেখে আগামী দিনে দেশজুড়ে বড়সড় রাজনৈতিক আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির। এখন দেখার, বিরোধীদের এই আক্রমণের মুখে পড়ে মোদি সরকার বাজারদর নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।

