দেশ
ভারতে মহার্ঘ হতে পারে কন্ডোম!
প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ ভারতীয় গ্রাহকদের পকেটে। এবার ভারতে বাড়তে পারে কন্ডোমের দাম। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ভারতের বৃহত্তম কন্ডোম প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘ম্যানকাইন্ড ফার্মা’ (Mankind Pharma) সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়া থাকে, তবে দেশে কন্ডোমের দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
ভারতে ‘ম্যানফোর্স’ (Manforce) ব্র্যান্ডের কন্ডোম অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই ব্র্যান্ডটি ম্যানকাইন্ড ফার্মারই একটি বড় অংশ। বর্তমানে ভারতের কন্ডোম বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ শেয়ার একাই নিয়ন্ত্রণ করে এই সংস্থা। ফলে তাদের এই দাম বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেশের সামগ্রিক পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা খাতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু তেলের দাম বাড়ার সাথে কন্ডোমের দামের কী সম্পর্ক? বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্ডোম তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো ল্যাটেক্স বা রবার এবং এটি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনের জন্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যাপক প্রয়োজন হয়। মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানে যুদ্ধাবস্থা চলায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে কাঁচামালের দামের পাশাপাশি কন্ডোম উৎপাদন এবং তা দেশজুড়ে সরবরাহ করার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে।
মনে করা হচ্ছে, মধ্য এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি আরও খারাপের দিকে যায় এবং তেলের বাজার অস্থির থাকে, তবে উৎপাদন ব্যয়ের এই বাড়তি বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদেরই বইতে হবে। এতদিন কোম্পানিটি বাড়তি খরচের চাপ নিজেদের কাঁধেই সামাল দিচ্ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে পণ্যের খুচরো মূল্য বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।
এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা কেবল মানুষের পকেটে টান ফেলবে না, বরং দেশে নিরাপদ যৌনতার অভ্যাস এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মতো সংবেদনশীল বিষয়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমাজকর্মীরা। কম দামে কন্ডোম না মিললে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে এর ব্যবহার কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

