শ্রদ্ধাহীনতার ফল
সংকলক: সন্দীপ সিনহা
গীতায় ভগবান বলছেন, জ্ঞানহীন ব্যক্তি, শ্রদ্ধাহীন ব্যক্তি, আত্মপ্রত্যয়হীন ব্যক্তি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনের ব্যক্তি ইহলোকে ও পরলোকে কোথাও সুখী হয় না। তথাকথিত ডিগ্ৰীধারী মানেই যে সকলে জ্ঞানী তা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বুদ্ধির বিকাশ হয় একপেশে। এই একপেশে বুদ্ধির মানুষেরা দোষদর্শী হয়ে ওঠে। আত্মজ্ঞানহীন ব্যক্তি অর্থাৎ যারা জগতের সকলকে, সবকিছুকে দেখতে পায়, শুধু নিজেকে দেখতে পায়না, নিজের আত্মাকে উপলব্ধি করতে পারে না। এই জ্ঞানহীন, শ্রদ্ধাহীন , শুধু অন্যের ছিদ্র খুঁজে চলা দোষদর্শী ব্যক্তি এবং সন্দেহবাতিক সদাসন্ধিগ্ধ চিত্ত ব্যক্তি অচিরেই ধ্বংস হয়। এরা উর্দ্ধগতি প্রাপ্ত হয় না, যেমন আছে তেমনই অধম প্রাণী হয়েই থাকে। এই ধরনের ব্যক্তিরা একসঙ্গে চলে। প্রবাদবাক্যে যেমন বলা হয়— রতনে রতন চেনে আর শোরে চেনে কচু। এখানে অজ্ঞ কথাটি ব্যপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, স্কুল- কলেজ শিক্ষাবিহীন গ্ৰামের মানুষ নয়, তাদের বরং উচ্চ পর্যায়ের মূল্যবোধ আমার - আপনার থেকে অনেক বেশি আছে। এখানে অজ্ঞ বলতে তাদের বোঝানো হচ্ছে যারা তথাকথিত ডিগ্ৰীধারী কিন্তু জীবনের উচ্চতর মূল্যবোধ সম্পর্কে কোন ধারনাই নেই। প্রত্যেক সমাজেই এইরকম কয়েকদল লোক থাকে যারা আধ্যাত্মিক দিক থেকে মৃত, যাদের দ্বারা কোন সৎকাজ করা সম্ভব নয়। এরা স্রোতহীন হয়ে পড়েছে। স্থূল শরীরের মৃত্যু আধ্যাত্মিক মৃত্যুর মতো এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয় কারণ মানব সত্তা ক্রমবিকাশের যথেষ্ট উচ্চস্তরেই রয়েছে। তাই সদা জীবনকে লোককল্যাণ হয় এমন কাজে নিয়োজিত রাখার নামই শ্রদ্ধাবান হওয়া। সৃজনশীলতা যদি শুধু ইন্দ্রিয়স্তরে আটকে থাকে তাহলে ধ্বংস অনিবার্য। সন্ধিগ্ধচিত্ত লোক এ জগতে জয়ী হতে পারে না। তাদের সৎবন্ধুও জোটে না। তাই উপনিষদের আহ্বান— উত্তিষ্ঠত জাগ্ৰত, প্রাপ্য বরান্ নিবোধত। ওঠো, জাগো, মহান আচার্যের আশ্রয়ে নিজের জ্ঞানোন্মেষ ঘটাও।

