সাধুমুখে হরিকথা শোনা
আমরা জানি পৃথিবীর চারভাগের তিন ভাগ জল। অনন্ত জলরাশিসম্পন্ন সমুদ্র- মহাসমুদ্রই পৃথিবীর জলের ভাণ্ডার। সূর্যের তাপে সমুদ্রের বাষ্প মেঘে পরিণত হয় , অবশেষে সেই মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে পৃথিবীর বুকে। এই জল পড়ে নদী,খাল, বিল, মরুভূমি, পাহাড় প্রভৃতি সবস্থানেই। চন্দ্র আমাদের সুশীতল মনোরম স্নিগ্ধ আলো বিতরণ করে সূর্যের কাছ থেকে তীব্রতেজের আলো নিয়ে। এইসব ঘটনার তাৎপর্য কী ? এর তাৎপর্য হলো, পৃথিবীর তিন চতুর্থাংশ সমুদ্র হলেও এর জল লবণাক্ত, তাই সরাসরি পান করা যায় না। আবার আমাদের সৌরমণ্ডলের সবচেয়ে বৃহৎ জ্যোতিষ্ক হল সূর্য যা সৃষ্টির সময় থেকেই আমাদের তাপ ও আলো দিয়ে আসছে কিন্তু প্রখর সূর্যের তলায় দাঁড়ানো যায় না, তাকানো যায় না, চোখ ঝলসে যাবে। কিন্তু যখন মেঘ মারফত জল পাই বা চন্দ্রের মারফত কিরণ পাই তখন তা হয় সুমিষ্ট, স্নিগ্ধ ও শীতল। সেই রকম আমাদের শাস্ত্রগুলির একমাত্র উদ্দেশ্য হল ভগবান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে, ভগবৎমুখী জীবনযাপন করতে পথনির্দেশ করা, ভগবানের মহিমা বর্ণনা করা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শাস্ত্র পড়ে উপলব্ধি করা সাধারণের পক্ষে দুর্বোধ্য। কিন্তু শাস্ত্রের অমৃতবাণী যখন কোন সাধুজনের, কোন মহাপুরুষের মুখ থেকে শোনা হয় তখন তা আমাদের বুঝতে সুবিধা হয় এবং আমাদের চিন্তা ভাবনার মোড় ঘুরতে থাকে। তাই তুলসীদাস বলছেন, "চন্দন তরু হরি ভকত সমীরা।" চন্দন গাছ সুগন্ধযুক্ত কিন্তু এই গন্ধ তখনই অনুভব করা যায় যখন তা বায়ু দ্বারা তাড়িত হয়ে আমাদের নাকে আসে। ধর্ম কথাও সেইরূপ। সাধুসন্তের দ্বারা তা শ্রুত না হলে তার প্রকৃত অর্থ আস্বাদন হয় না।

