বিদেশ
অস্তিত্বই নেই এমন ভারতীয় এয়ারবেস ধ্বংসের দাবিতে সমাজমাধ্যমে হাসির পাত্র পাকিস্তানি সেনা
প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের বিমান হামলার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে ফের আন্তর্জাতিক মহলে চরম হাসির পাত্র হলো পাকিস্তান সেনাবাহিনী। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া জঙ্গি হামলার মোক্ষম জবাব দিতে ভারতীয় বায়ুসেনা ‘অপারেশন সিন্দুর’ (Operation Sindhur) চালায়। আকাশপথে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। ভারতের এই সফল অভিযানের পর নিজেদের মুখ রক্ষা করতে এবং দেশের জনগণকে শান্ত করতে পাল্টা হামলার ছক কষেছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু ভারতের অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অভেদ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে পাকিস্তানের সেই চেষ্টা সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়। তাদের ছোঁড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমান ভারতের আকাশসীমায় কোনো ক্ষতিই করতে পারেনি।ব্যর্থতা ঢাকতে বরাবরই পাকিস্তান দাবি করে আসছে যে, তাদের প্রত্যাঘাতে নাকি ভারতের বড়সড় ক্ষতি হয়েছে।
এই মিথ্যা ও কাল্পনিক দাবিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন পাক সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা। একটি বিবৃতিতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দাবি করেন, পাকিস্তানি বায়ুসেনা নাকি ভারতের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি বা এয়ারবেস সফলভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। পাক কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, সেই দুটি ঘাঁটির নাম হলো ‘রাজৌরি এয়ারবেস’ এবং ‘মামুন এয়ারবেস’। পাক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মুনিব জামাল নামে ওই পাক জওয়ান বলেন, সিঁদুরের জবাবে পাকিস্তান অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস শুরু করেছিল। জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান এবং গুজরাটের বিভিন্ন এলাকায় আমরা প্রত্যাঘাত করেছিলাম। ফাতেহ-১ ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে পাক সেনাবাহিনী পালটা জবাব দিয়েছিল। তিনি বলেন, ভারতীয় সেনার রাজৌরি এবং মামুনের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে আমরা সফলভাবে আঘাত হেনেছিলাম।
পাক সেনার এই দাবি সামনে আসতেই ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে হাসির রোল উঠেছে। কারণ, বাস্তবে ভারতে এই নামের কোনো সক্রিয় সামরিক বিমানঘাঁটির অস্তিত্বই নেই! ভৌগোলিক এবং সামরিক তথ্য অনুযায়ী, রাজৌরি হলো জম্মু ও কাশ্মীরের একটি জেলা এবং ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা। সেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থাকলেও কোনো সক্রিয় বায়ুসেনা ঘাঁটি বা এয়ারবেস নেই। অন্যদিকে, মামুন হলো পাঞ্জাবের পাঠানকোটের কাছে অবস্থিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বড় সামরিক ক্যান্টনমেন্ট বা সেনানিবাস এলাকা। এটি কোনোভাবেই বিমানঘাঁটি নয়।পাকিস্তানের এই চরম অজ্ঞতা এবং ভুয়া প্রোপাগান্ডা ফাঁসের পর সমাজমাধ্যমে ট্রোলের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
নেটিজেনরা কটাক্ষ করে বলছেন, গুগল ম্যাপ ব্যবহার করার ন্যূনতম জ্ঞানটুকুও পাকিস্তানি সেনার নেই। নিজেদের কাল্পনিক জয়ের গল্প সাজাতে গিয়ে তারা ভারতের এমন দুটি ঘাঁটির নাম বলে দিল, যার কোনো অস্তিত্বই নেই। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে পরাস্ত হয়ে নিজেদের সম্মান বাঁচাতে পাকিস্তানি সেনা যে কতটা মরিয়া এবং কতটা সস্তা মিথ্যার আশ্রয় নেয়, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। এর আগেও একাধিকবার ভুল তথ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে সমালোচিত হয়েছে পাকিস্তান, আর এবার সরাসরি অস্তিত্বহীন এয়ারবেস ধ্বংসের গল্প শুনিয়ে তারা নিজেদের হাসির খোরাক করে তুলল।

