বিদেশ
বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষায় সুইডেনকে পাশে চান প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সুইডেনের গোথেনবার্গ পৌঁছেছেন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে সুইডিশ গ্রিপেন যুদ্ধবিমান নামিয়ে আনা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন। দুই প্রধানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সাক্ষাৎ শুরু হয়েছিল বিমানবন্দর থেকেই।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টারসনের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই; তিনি নিজে এসে আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই সফরের লক্ষ্য ভারত ও সুইডেনের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করা।” উলফ ক্রিস্টারসনও মোদীকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, “বন্ধু, আপনাকে আবারও সুইডেনে স্বাগত। দুটি গণতন্ত্র, একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব।” অনুষ্ঠানে মোদীকে দেওয়া হয় সুইডেনের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘রয়্যাল অর্ডার অফ পোলার স্টার’।
গোথেনবার্গ শহরটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটিকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও ব্যবসায়িক আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। পৌঁছোবার পরই দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীদের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা হবে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালানোর কথা আছে।
মোদী সেখানে সুইডেনের কয়েকজন শীর্ষ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর সঙ্গেও দেখা করবেন। পরিচ্ছন্ন শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।
ভারত বর্তমানে উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সফর সুইডেনকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আরও স্থাপন করবে।
বিদেশ মন্ত্রক মনে করিয়ে দিয়েছে, ভারত ও সুইডেনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিগত পাঁচ দশকের পুরোনো। এক আমলা বলেছেন, “কার্ল গুস্তাফ রাইফেল ১৯৭৬ সাল থেকে ভারতীয় সেনায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৪ সালে আমাদের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। তখন হরিয়ানার ঝাঝরে কার্ল গুস্তাফ এম৪ রাইফেলের একটি কারখানা খোলা হয়—সুইডেনের বাইরে এই প্রথম।”
বিশ্লেষকরা আশা করছেন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সঙ্গে মিলিয়ে সুইডেনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা এই সফরে আরও বাড়বে।

