হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জে সরব ভারত
নিজস্ব প্রতিনিধি: হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক নৌপরিবহণের নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘে কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত। গত ১৩ মে ওমান উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী ছোট বাণিজ্যজাহাজে আগুন ধরিয়ে হামলা চালানোর পর থেকে বিষয়টি নিয়ে দিল্লি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সরব হয়েছে। সোমবার রাতভর ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ, অসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা এবং মুক্ত নৌপথে বাধা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হরিশ বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনকে সকল দেশের সম্মান জানানো উচিত এবং নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, নৌপরিবহন অসমর্থিতভাবে স্থবির করলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সার সরবরাহে সমস্যা বাড়বে। তাই তাত্ক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কিছু স্বল্পমেয়াদি কাঠামোগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়শোয়ালও ওই হামলাকে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ওমান উপকুলে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে আক্রমণ সমর্থন যোগ্য নয়। বাণিজ্যিক জাহাজ এবং অসামরিক নাবিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—এটা সম্পূর্ণ দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর কথায়, নৌপথের স্বাধীনতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক এবং এই ধরনের ঘটনাগুলো বন্ধ করা দরকার।
নয়াদিল্লি ব্রিকস বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর কূটনৈতিক স্তরেও বিষয়টি তোলা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনা করে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। ভারত কোনো দেশের নাম না করলেও সংশ্লিষ্টদের প্রতি সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে দ্রুত তদন্ত ও ন্যায় নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট। এখানে সমস্যা হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে। তাই ভারত বলছে, এ ধরনের হামলা কেবল এলাকায় নয়, বিশ্বের অর্থনীতি ও খাদ্য-সুরক্ষায়ও ঝুঁকি বাড়াবে। আন্তর্জাতিক সব দেশকে এখন যৌথভাবে নৌপথে নিরাপত্তা রক্ষা এবং অসামরিক নৌপরিবহন মুক্ত রাখার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

