বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

বিএসএফকে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জমি দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬
বিএসএফকে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জমি দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় এক বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফকে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জমি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই জমি হস্তান্তরের কাজ শেষ হবে বলে জানানো হয়েছে।

 বুধবার কলকাতায় বিএসএফের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানো, বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) তৈরি এবং বিএসএফ-এর পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আমরা ২৭ কিলোমিটার জমি দিতে প্রস্তুত। এর ফলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও পাচার রুখতে বিএসএফ আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে পারবে।
 নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করে বলেন, আগের সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি এবং তোষণের কারণে বছরের পর বছর বিএসএফ-কে জমি দেয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিএসএফ বারবার আবেদন করলেও রাজ্য সহযোগিতা করেনি বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। ফলে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই আমলারা জমি হস্তান্তরের ফাইল তৈরি করে ফেলেছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন। 
এর আগে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। সেই ডেডলাইন মেনে প্রথম দফায় উত্তর ২৪ পরগনা, মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে সীমান্তবাসীরা। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২,২১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে একটা বড় অংশ এতদিন বেড়াবিহীন অবস্থায় ছিল। এই খোলা সীমান্ত দিয়ে লাগাতার গবাদি পশু পাচার, সোনা চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠত। রাজ্যের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় কৃষকরা অত্যন্ত খুশি। দেশাত্মবোধের পরিচয় দিয়ে বহু কৃষক তাঁদের ফসলি জমিও ফেন্সিংয়ের কাজের জন্য ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, এবার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসে গেলে তাঁরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।