বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

শেয়ার বাজারের ওঠানামায় বাড়ছে আতঙ্ক: মিউচুয়াল ফান্ডে আস্থা হারাচ্ছেন বহু মানুষ

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬
শেয়ার বাজারের ওঠানামায় বাড়ছে আতঙ্ক: মিউচুয়াল ফান্ডে আস্থা হারাচ্ছেন বহু মানুষ
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ভারতীয় শেয়ার বাজারের সাম্প্রতিক তীব্র ওঠানামা এবং অস্থিরতা সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি (SIP)-র প্রতি মানুষের যে অভূতপূর্ব ভরসা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাজারের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন তাতে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। 

অ্যাসোসিয়েশন অফ মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়া (AMFI)-র সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১১ মাসের মধ্যে এই প্রথমবার নতুন এসআইপি চালু করার তুলনায় পুরনো এসআইপি বন্ধ করার সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে যে বাজারের ক্রমাগত উত্থান-পতনের জেরে বিনিয়োগকারীদের একাংশের মনে তীব্র চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।পরিসংখ্যানের উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যাচ্ছে AMFI-এর অফিসিয়াল রিপোর্টেও। সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে সারা দেশে প্রায় ৫৩.৩৮ লক্ষ বিনিয়োগকারী তাঁদের চলতি এসআইপি বন্ধ করে দিয়েছেন অথবা তাঁদের বিনিয়োগের মেয়াদ সম্পূর্ণ (Maturity) হয়েছে। এর বিপরীতে, নতুন করে এসআইপি শুরু করেছেন মাত্র ৫২.৮২ লক্ষ মানুষ। ফলে টেকনিক্যাল ভাষায় ‘এসআইপি স্টপেজ রেশিও’ (SIP Stoppage Ratio) এক ধাক্কায় ১০০ শতাংশের গণ্ডি পেরিয়ে ১০১ শতাংশে পৌঁছে গেছে। 
বিগত প্রায় এক বছর ধরে যেখানে প্রতি মাসে নতুন বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বন্ধ হয়ে যাওয়া অ্যাকাউন্টের চেয়ে অনেক বেশি থাকত, সেখানে এই বিপরীতমুখী ট্রেন্ড বাজার বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কেন ঘাবড়ে যাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা? শেয়ার বাজারের মূল নীতিই হলো ওঠানামা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশ্ববাজারের মন্দা এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) অনবরত শেয়ার বিক্রির চাপে দেশীয় বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের সহ্যসীমা ছাড়িয়ে গেছে। অনেক বিনিয়োগকারী লক্ষ্য করেছেন যে, তাঁদের এক বা দুই বছরের পুরনো এসআইপি পোর্টফোলিও নেতিবাচক বা Negative Returns দেখাচ্ছে। কষ্টার্জিত অর্থের মূল্য এভাবে কমতে দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন এবং ভবিষ্যতের বড় ক্ষতির ভয়ে তড়িঘড়ি নিজেদের এসআইপি বন্ধ বা সাময়িক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
তবে আতঙ্কে ভুল সিদ্ধান্ত নয়। বাজার বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। শীর্ষস্থানীয় ফান্ড ম্যানেজারদের মতে, বাজারের এই পতনের সময়েই এসআইপি বন্ধ করা সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ, যখন বাজার নিচে নামে, তখন এসআইপি-র মাধ্যমে একই টাকায় মিউচুয়াল ফান্ডের বেশি পরিমাণ 'ইউনিট' কেনা যায়, যাকে আর্থিক পরিভাষায় 'রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং' বলা হয়। বাজার যখন পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে, তখন এই কম দামে কেনা ইউনিটগুলোই বিনিয়োগকারীদের বিপুল মুনাফা এনে দেবে। মাঝপথে এসআইপি থামিয়ে দিলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যের এক বড় পরীক্ষা। সাময়িক লোকসান দেখে ঘাবড়ে না গিয়ে, সুশৃঙ্খলভাবে বিনিয়োগ বজায় রাখাই এই বাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার একমাত্র চাবিকাঠি।