মোবাইল পূজারী!
মন যেন হড়হড়ে তালশাঁস। চেপে ধরতে গেলেই পিছলে পালায়। পদ্মপাতায় জলের মতো। যেই স্থির করতে যাই, টলমল করে শেষে ঝরেই যায়। মনকে শাসন করব কি, মনই আমাকে শাসন করে। ধ্যান হলো একধরনের লড়াই। সবাই আছে শুধু আপনি আসেন না। আপনাকে ভাবতে বসলেই অন্য সব ভাবনা ভিড় করে আসে। অথচ মনে মনে ভাবি স্বামীজীর মত ধ্যান সিদ্ধ হব, দেহ থেকে জ্যোতি ঠিকরে বেরবে ইত্যাদি। মালা ছিঁড়ে গেল, হাজার টাকার ধুপ পুড়ে গেল, বেশ কয়েকটা ফুলের বাগান শেষ হয়ে গেল। তবুও আঁধার ঘরে আলো আর জ্বলল না। পাখি দাঁড়ে বসে রাধাকৃষ্ণ বলে, কিন্তু বিড়ালে ধরলেই ক্যাঁ ক্যাঁ করে। জ্ঞানের ফুলঝুরি, আসলে অজ্ঞান। শ্রীরামকৃষ্ণ বললেন তোমাদের চৈতন্য হোক। কিন্তু শোনাই সার। চৈতন্য কাকে বলে? সেটিই পরিষ্কার হলো না। আমি কে? শুধু কি একটা নাম? দোকানের গায়ে ঝোলানো সাইনবোর্ডের মত! লেনা আর দেনা। নিজেকে বাজারে বিকানো। তাকের উপর লাল গণেশ। মোবাইল পূজারী গঙ্গাজল ছিটায় ফুল ছুড়ে দেয়, বিনিময়ে মাসিক বরাদ্দ বাঁধা। কপালে টিপ পরায়। সন্ধ্যাবেলা গণেশের সামনে টুনি লাইট জ্বলে! ধূপের ধোঁয়ায় তিন পাক ঘুরিয়ে ধূপটিকে গুঁজে দেওয়া। চৈতন্য কে চায় প্রভু! গণেশ কে ধুপ দিয়ে শুধু কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা চেয়ে থাকি। ঠাকুর আমাদের বললেন, বিচার করো টাকায় কি হয়। আমরা বিচার করে পেলাম টাকাতেই সব হয়। টাকাই হল নেশা, যত পাই তত চাই। টাকা পেলেই মনের মধ্যে একটা সুখ সুখ ভাব আসে। টাকা বেশি হলে শ্রেষ্ঠত্বের একটা অভিমান আসে। আসে অদ্ভুত একটা রাজসিকতা। কিন্তু বিত্ত-বৈভবে কি শান্তি আসে! ঠাকুর চিলের উপমা দিয়ে বলেছিলেন, যতক্ষণ ঠোঁটে মাছ ততক্ষণ কাকের তাড়া। মাছটা ফেলে দিলেই শান্তি। এসব কত পড়েছি কিন্তু মনে গ্রহণ করিনি। চিল হয়েই বসে আছি। স্বভাবে চিল, অভাবে কাক!

