বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন পুরুষরা! মুর্শিদাবাদের পর এবার চন্দ্রকোণাতেও গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৬
লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন পুরুষরা! মুর্শিদাবাদের পর এবার চন্দ্রকোণাতেও গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার জন্য তৈরি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন পুরুষরা! রাজ্য রাজনীতিতে এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির পর্দা ফাঁস হতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। বুধবারই এক সাংবাদিক বৈঠকে এই দুর্নীতির একটি জ্বলন্ত উদাহরণ রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বার্তার পর ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যেই মুর্শিদাবাদের পর এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণাতেও একই ধরনের জালিয়াতির হদিস মিলল। চন্দ্রকোণা থেকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট প্রকল্পটি শুধুমাত্র রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির জালিয়াতি চক্র পুরুষদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এই টাকা আত্মসাৎ করছিল বলে অভিযোগ। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের বাসিন্দা রাকিবুল শেখের নাম উল্লেখ করে এই অনিয়ম প্রকাশ্যে আনেন। রাকিবুল পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও গত ৩ বছর ধরে রমরমিয়ে ওই প্রকল্পের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে তুলছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরেই বুধবার রাতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে রাকিবুলকে গ্রেপ্তার করে।
মুর্শিদাবাদের এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঠিক একই ধরনের জালিয়াতির ছবি ধরা পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায়। সেখানেও মহিলাদের জন্য বরাদ্দ লক্ষ্মী ভান্ডারের প্রকল্পের টাকা জালিয়াতি করে এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই জেলার চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের মনোহরপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মনোহরপুর এলাকার ওই তৃণমূল নেতা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর আর্থিক সহায়তা পেতেন বলে অভিযোগ। তিনি পেশায় একজন ঠিকা কর্মী। এই ঘটনায় বিজেপির তরফ থেকে দাবি তোলা হচ্ছে, অবিলম্বে টাকা ফেরত দিক অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা উত্তম সাউ। এমনকী আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হোক তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও অভিযুক্ত উত্তম দাবি করেন, বিষয়টি তিনি জানতেন না। কয়েকদিন আগেই তার নজরে এসেছে। তাঁর দাবি, উপভোক্তার নামের জায়গায় তাঁর নাম থাকলেও সেখানে প্রদত্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট। 
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ প্রশাসন ও সাইবার ক্রাইম বিভাগ যৌথভাবে তৎপর হয়ে চন্দ্রকোণার ওই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এর পেছনে কোনো বড়সড় চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা ভুয়া নথি তৈরি করে এই কাজ করছিল।
এই জোড়া গ্রেপ্তারি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের টাকা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে না পৌঁছে কীভাবে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে যাচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। এর পেছনে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগ বা দুর্নীতির জাল কতটা গভীরে বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ধরণের জালিয়াতি রুখতে জেলা স্তরে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং সমস্ত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও নথিপত্র নতুন করে যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।