বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

বোধি বৃক্ষ - আমিত্বর ঝাঁজ নয়

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬
বোধি বৃক্ষ - আমিত্বর ঝাঁজ নয়
সন্দীপ সিনহাসন্দীপ সিনহা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

ব্যাসদেব যুদ্ধের প্রশস্তি করার জন্য মহাভারত রচনা করেন নি। ঘৃণা, হিংসা এবং ওই জাতীয় আবিলতা মানুষের জীবনে কি সর্বনাশ ডেকে আনে, সেটি দেখানোই ব্যাসদেবের উদ্দেশ্য ছিল। ওই মহাকাব্যের শেষ দিকে পুত্র শুকদেবকে মহাভারতের সারসংক্ষেপ দিতে গিয়ে ব্যাসদেব এই বিষয়ে বলেছেন, বাসনা, লোভ ইত্যাদিকে মনের মধ্যে কখনো প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়, সে উপক্রম হলেই সর্বশক্তি দিয়ে মনের রাশ টেনে ধরতে হবে, ওগুলিকে মনের ভেতর কোনওমতে ঢুকতে দেওয়া চলবে না। এভাবেই ক্রমশ চিত্তকে পরিশুদ্ধ ও নির্মল করে তুলতে হবে। সেটিই হল ভিতরের শিক্ষা, অন্তরের অনুশীলন। বাইরে আমরা সকলকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারি, কিন্তু অন্তর শুদ্ধি ঘটাতেই হবে। গীতার দ্বাদশ অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, অদ্বেষ্টা সর্বভূতানাং মৈত্রঃ করুণ এব চ। নির্মমো নিরহঙ্কারঃ সমদুঃখসুখঃ ক্ষমী।। অর্থাৎ যিনি কাউকে দ্বেষ করেন না, সকলের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন এবং দয়ালু, যিনি  "আমি ও আমার " ভাব বর্জিত, সুখ দুঃখে সমভাবাপন্ন এবং ক্ষমাশীল তিনি ঈশ্বরের প্রিয়। এই গুণগুলি ধাপে ধাপে আয়ত্ত করার চেষ্টা করে যেতে হবে। অহংকার থেকে মুক্ত তিনিই যার মধ্যে আমিত্বের ঝাঁজ নেই, যে আমি আছে তা শ্রীরামকৃষ্ণের ভাষায় "বিনম্র আমি", "পাকা আমি", "ভক্তের আমি", "দাস আমি"। সেখানে আমিত্বের এমন রূপান্তর ঘটে গেছে যে পুরনো কাঁচা আমি কে আর খুঁজেই পাওয়া যায় না। এই অন্তর্নিহিত দিব্যগুণগুলিকে বিকশিত করার একমাত্র পথ আধ্যাত্মিক জীবন যাপন করা। এইরূপ মানুষের বাইরের কাজকর্ম ও আচরণে এক বিরাট পরিবর্তন দেখা যাবে। সংসারে আকণ্ঠ ডুবে থাকা, সর্বদা ভোগ বা বাসনায় লিপ্ত মানুষরাই অন্যের প্রতি দ্বেষ ও বৈরিতা দেখায় এবং ক্ষেত্র বিশেষে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ে। যারা মনকে অসন্তোষের জঞ্জাল জমিয়ে রাখার ডাস্টবিনে পরিণত করে তারা কখনোই নিজেরাও শান্তিতে থাকে না অপরকেও শান্তি দিতে পারেনা। যে হৃদয় ক্ষোভ পুষে রাখে না,সে হৃদয় ধন্য। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই মনের মধ্যে ক্ষোভের পাহাড় জমিয়ে তুলি। যত ক্ষোভ সব মনের ভেতর জমিয়ে রাখি। কুড়ি বছর পরেও পুরনো দুঃখ ভুলতে পারিনা। এই হলো আমাদের দুরবস্থা। আমরা যদি এইসব অসাধারন গুণ গুলির অনুশীলন করতে থাকি তাহলে সমাজে শুভ শক্তির প্রভাব বাড়বে এবং অশুভ শক্তি গুলি দূর হবে। ভালো ও মন্দ দুটিই মনের সৃষ্টি। দুটির জন্মই মনে। তাই কর্ম জগতে মন কিরকম আচরণ করছে সেদিকে একটু দৃষ্টি দেওয়া সকলের পক্ষেই জরুরী। তা না হলে যেমন সামাজিক জীবন তেমনি পারিবারিক জীবনও বিপর্যস্ত হবে। মন যদি শুধুই বর্হিমুখী হয় এবং মন উন্মত্ত হয় তাহলে মানুষের দুঃখ দুর্দশা ক্রমশই বাড়বে।