হট টপিক
জলবন্টন চুক্তি নিয়ে মুর্শিদাবাদে ভারত-বাংলাদেশ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: নব্বইয়ের দশক থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ জলবন্টন চুক্তি নিয়ে এক বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই ঐতিহাসিক চুক্তি সংক্রান্ত নানা বিষয় খতিয়ে দেখতে এবং গঙ্গা-পদ্মার জলবিভাজনের খুঁটিনাটি বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করার জন্য বৃহস্পতিবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হলো। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমার অন্তর্গত বেনিয়া গ্রাম এলাকায় দুই দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
নব্বইয়ের দশকে স্বাক্ষরিত এই জলবন্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং দুই দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। সেই মতো, এদিন ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে আসা একটি বিশেষ দল এবং ওপার বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে আসা সে দেশের স্বরাষ্ট্রদপ্তর ও জলবন্টন চুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা বেনিয়া গ্রামে উপস্থিত হন। দিনভর চলা এই ম্যারাথন বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা গঙ্গা ও পদ্মা নদীর বর্তমান জলের নাব্যতা, পলি সমস্যা এবং শুকনো মরশুমে জল পাওয়ার পরিমাণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই দেশের সীমান্ত ঘেঁষা নদীগুলির জলবন্টন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং জলবিভাজনের প্রযুক্তিগত দিকগুলি নিয়ে উভয় পক্ষই নিজেদের মতামত আদানপ্রদান করেছে। বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদী তীরবর্তী অঞ্চলের কৃষিকাজ ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরাই অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জলবন্টন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে এই বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঙ্গার ডাউনস্ট্রিম ফারাক্কা থেকে ফারাক্কা ব্যারেজের জলপ্রবাহ পর্যবেক্ষণের সাথে সাথে ভাগীরথী ও পদ্মা নদীর জলবিভাজন স্থল পর্যন্ত জলপ্রবাহের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করেন। আগামীতে টানা দুই দিনব্যাপী এই জলবন্টন চুক্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক জারি থাকবে বলেই জানা গিয়েছে।
মুর্শিদাবাদের এই সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করেছিল। ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও ভৌগোলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই জলবন্টন চুক্তি সবসময়ই একটি বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দিনভর চলা এই বৈঠকের নির্যাস আগামী দিনে দুই দেশের মৈত্রী সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং তিস্তা বা গঙ্গার মতো আন্তর্জাতিক নদীগুলির জলবন্টন নীতি নির্ধারণে নতুন দিশা দেখাবে।

