বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

বিশ্বজুড়ে ইবোলা নিয়ে নতুন আতঙ্ক, সতর্ক ভারত সরকার

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ইবোলা নিয়ে নতুন আতঙ্ক, সতর্ক ভারত সরকার
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: মধ্য আফ্রিকার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো এবং উগান্ডায় মারণ ‘ইবোলা’ ভাইরাসের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই সংক্রমণকে ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অফ ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন’ বা আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশ্বব্যাপী এই সতর্কতা জারির পরই নড়েচড়ে বসেছে ভারত সরকার। দেশে যাতে কোনোভাবেই এই মারণ ভাইরাস প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য আগেভাগেই একগুচ্ছ জরুরি ও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

ভারতে সংক্রমণের ঝুঁকি কম, তবু সতর্ক প্রশাসনকেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতে কোনো ইবোলা আক্রান্তের খোঁজ মেলেনি এবং দেশে এর সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত কম। তবে আন্তর্জাতিক যাতায়াতের কারণে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। তাই আগেভাগেই দেশের সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং ল্যান্ড বর্ডার বা স্থল সীমান্তগুলিতে কড়া নজরদারি চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকা এবং সংক্রমিত দেশগুলি থেকে আসা যাত্রীদের ওপর কড়া স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কেন্দ্র সরকারের জরুরি কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন- 
কোয়ারেন্টাইন সেন্টার: দেশের প্রধান প্রধান বিমানবন্দর ও বন্দরে সন্দেহভাজন রোগীদের তৎক্ষণাৎ আলাদা রাখার জন্য আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি রাখা হয়েছে।
ল্যাবরেটরি প্রস্তুতি: পুণের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি’ (NIV)-কে ইবোলা পরীক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য ল্যাবগুলিকেও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
SOP পর্যালোচনা: স্ক্রিনিং, নজরদারি এবং রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) বা নির্দেশিকা নতুন করে খতিয়ে দেখে আরও কঠোর করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে কেন এই ইবোলা নিয়ে এত উদ্বেগ? চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারের ইবোলা সংক্রমণটি ছড়াচ্ছে মূলত ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) নামক একটি বিরল স্ট্রেনের কারণে। কঙ্গো ও উগান্ডায় ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনটির জন্য সাধারণ ইবোলার মতো কোনো অনুমোদিত প্রতিষেধক (টিকা) বা নির্দিষ্ট ওষুধ এখনও নেই। এই রোগে আক্রান্ত হলে তীব্র জ্বর, শরীরে তীব্র ব্যথা, বমি এবং চোখ-নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে আক্রান্তের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। 
গুজব না ছড়ানোর আর্জি জানিয়ে বলা হয়েছে এটি মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়, সাধারণ মেলামেশায় বা বাতাসে করোনা ভাইরাসের মতো ছড়ায় না। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমকে কোনো রকম ভুয়ো খবর বা গুজব না ছড়ানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।