হট টপিক
পশুপালকদের অধিকার রক্ষার দাবিতে ব্লকে ডেপুটেশন
প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: পশুপালকদের জীবন-জীবিকা বিপন্নকারী সরকারি নির্দেশিকা বাতিল এবং এসআইআর (SIR) বা বিশেষ বিনিয়োগ অঞ্চল থেকে বাদ পড়া মানুষদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেছে সিপিএম। রাজ্যের একাধিক ব্লকে বিডিও-র কাছে স্মারকলিপি বা ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে।
এ দিন গলসী ১ বিডিও ও বুদবুদ থানায় ডেপুটেশন দেওয়া হয় এবং বিএলডিও (BLDO) ব্লক প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তাকেও জানানো হয়। সেখানে বলা হয় পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ এর ধারা ১২ অনুযায়ী কুরবানীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শিথিলতা প্রদানের জন্য যথাযত পদক্ষেপ গ্রহন করে মুসলিম সম্প্রদায় যাতে তাদের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন পালন করতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি এলাকার শান্তি সম্প্রীতি ও আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করারও আবেদন জানানো হয়।
উত্তরবঙ্গে সকাল থেকেই জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও পশুপালকরা রাজবাড়ি গেটের সামনে এসে জড়ো হন। এরপর সেখান থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদী মিছিল বের হয়। ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে আন্দোলনকারীরা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে বিডিও অফিসের দিকে এগিয়ে যান। মিছিলটি যখন জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিসের মূল গেটে পৌঁছায়, তখন সেখানে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। আন্দোলনকারীরা গেটের সামনেই রাস্তায় বসে পড়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের সাফ কথা, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।
আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, সরকারের একটি সাম্প্রতিক নির্দেশিকার জেরে গ্রামীণ এলাকার পশুপালকরা চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। চারণভূমি ও পশু পালনের চিরাচরিত অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই নির্দেশিকা অবিলম্বে বাতিল করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। এর পাশাপাশি, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো ভোটাধিকার রক্ষা। অভিযোগ উঠেছে, স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন বা এসআইআর (SIR) ঘোষণার পর ওই নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বহু সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। গ্রামীণ মানুষের দাবি, কোনো অবস্থাতেই তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার অর্থাৎ ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না।
বিডিও অফিসের গেটে দীর্ঘক্ষণ ধরে অবস্থান বিক্ষোভ চলার পর, আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বিডিওর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা নিজেদের দাবিদাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি বিডিও-র হাতে তুলে দেন। বিডিও তাঁদের অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। পশুপালকদের জীবিকা বাঁচানো এবং প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও জোরদার হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিপিএমের নেতারা।

