হট টপিক
অনুপ্রবেশে জনবিন্যাসের বদল রুখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি কেন্দ্রের
প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশজুড়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং সেজন্য জনসংখ্যার ভারসাম্যে যে বদল ঘটছে, তা খতিয়ে দেখতে অবশেষে একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করল মোদী সরকার। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নওলেকরের নেতৃত্বে এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক শিবিরের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট লাল কেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশজুড়ে জনবিন্যাসের চরিত্র বদল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলেছিলেন। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন ঘটাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে দেশের জনবিন্যাসে যে অস্বাভাবিক বা অপাকৃতিক পরিবর্তন ঘটছে, তা যে কোনো রাষ্ট্রের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুতর চ্যালেঞ্জ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এই জনসংখ্যাগত বিচ্যুতি কেবল দেশের সার্বভৌমত্বকেই আঘাত করে না, বরং এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন এবং বিশেষ করে আদিবাসী সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে মূলত তিনটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, দেশজুড়ে বেআইনি অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাসে ঠিক কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তার একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন করা। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের জনসংখ্যাগত ভারসাম্যে কোনো অস্বাভাবিক বিচ্যুতি ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। তৃতীয়ত, এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন রুখতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সুপরিকল্পিত সমাধান সূত্র সরকারের কাছে পেশ করা।
বিচারপতি নওলেকরের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে দেশের একাধিক শীর্ষ স্তরের বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন প্রশাসনিক আধিকারিকদের রাখা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন ভারতের সেন্সাস কমিশনার, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্য সচিব তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আধিকারিক বালাজি শ্রীবাস্তব এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. শমিকা রবি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (বিদেশি নাগরিক বিষয়ক-১ বিভাগ) এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বা অসমের মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশের তত্ত্বকে হাতিয়ার করে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই সরব। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসেও অমিত শাহ সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ এবং তার জেরে স্থানীয় জনবিন্যাস বদলে যাওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন। এই আবহে কেন্দ্রের এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

